সমাস, কারক ও বিভক্তি মনে রাখার শর্টকাট টেকনিক♥ .



★ দ্বন্দ্ব_সমাসঃ এবং,ও,আর (৩টি অব্যয়) থাকলে দ্বন্দ্ব

সমাস।

★ অলুক_দ্বন্দ্বঃ ব্যাসবাক্যে ে ও ো থাকলে অলুক

দ্বন্দ্ব।

★ দ্বিগু_সমাসঃ ব্যাসবাক্যে “সমাহার” থাকলে দ্বিগু

সমাস।

★ নঞ_তৎপুরুষঃ শুরুতে ন থাকলে নঞ তৎপুষ।

★ উপপদ_তৎপুরুষঃ শেষে ” যা” থাকলে উপপদ

তৎপুরুষ সমাস।

★ অলুক_তৎপুরুষঃ পরিবর্তন না হলে অলুক তৎপরুষ।

★ কর্মধারায়_সমাসঃ ব্যাসবাক্যের মাঝে “যে”

থাকলে কর্মধারায় সমাস।

★ মধ্যপদলোপী__কর্মধারায়ঃ মাঝে বিভক্তি লোপ

পেলে মধ্যপদলোপী কর্মধারায় সমাস।

★ উপমান_কর্মধারায়ঃ মাঝে “ন্যায়” থাকলে উপমান

কর্মধারায় সমাস।

★ উপমিত_কর্মধারায়ঃ শেষে ন্যায়” থাকলে উপমিত

কর্মধারায় সমাস।

★ রুপক_কর্মধারায়ঃ মাঝে “রুপ” থাকলে রুপক

কর্মধারায়

★ বহুব্রীহি_সমাসঃ শেষে “যার” থাকলে বহুব্রীহি

সমাস।

★ ব্যতিহার_বহুব্রীহিঃ হাতাহাতি, কানাকানি

ইত্যাদি ব্যতিহার বহুব্রীহি।

★ অব্যয়ীভাব_সমাসঃ পর্যন্ত, অভাব, সমীপে, অতিক্রম, গমন,সদৃশ ইত্যাদি অব্যয়ীভাব সমাস।

★ প্রাদি_সামাসঃ প্র, পরা, প্রতি, অনু থাকলে প্রাদি

সমাস।

★ নিত্য_সমাসঃ “অন্য” দিয়ে সমাস হলে নিত্য সমাস।

.

#কবিতাঃ-

.

এবং,ও,আর মিলে যদি হয় দ্বন্দ্ব,

সমাহারে দ্বিগু হলে নয় সেটা মন্দ।

যে যা তা যিনি তিনি হয় কর্মধারায়,

যে যার শেষে থাকলে তাকে বহুব্রীহি কয়।

অব্যয়ের অর্থ প্রাধান্য পেলে “অব্যয়ী” মেলে,

বিভক্তি লোপ পেলে তাকে তৎপুরুষ বলে।

.

#বিঃদ্রঃ কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।

.

.

***************** কারক *******************

.

কারক ৬ প্রকার:

১. কর্তৃকারক;

২. কর্মকারক;

৩. করণকারক;

৪. সম্প্রদান কারক;

৫. অপাদান কারক; এবং

৬. অধিকরণ কারক।

.

#কবিতাঃ-

.

যিনি করে তিনি কর্তা তাকে কর্তৃ কারক কয়।


যাহা দ্বারা কার্য করে কর্তা মহাশয়,

তাহাই করণ কারক জানিবে নিশ্চয়।


যাকে অবলম্বনে কার্য করে কর্তা মহাশয়,

সব লোকে নাকি তাকে আবার কর্ম কারক কয়।


স্বত্ব ত্যাগ করে করেন যখন কর্তা করেন দান,

তাকেই কহিব আমরা কারক সম্প্রদান।


হতে, থেকে, বুজিয়ে যখন কর্তা করে কার্য সম্পাদন,

তাকেই কহিব আমরা কারক অপাদান।


যে স্থানে, সময়ে, কর্তা করেন কার্য সম্পাদন,

তাকেই বলিবে সবাই কারক অধিকরণ।

.

#ব্যাখ্যাঃ-

১।কর্তৃকারক: যে কাজ করে সেই কর্তা বা কর্তকারক।


যেমন:-

* আমি ভাত খাই।

* বালকেরা মাঠে ফুটবল খেলছে।


এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে ‘কে’ বা ‘কারা’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, সেটিই কর্তা বা কর্তৃকারক।


* কে ভাত খায়?

উত্তর হচ্ছে আমি।

* কারা ফুটবল খেলছে?

উত্তর হচ্ছে-বালকেরা।

তাহলে আমি এবং বালকেরা হচ্ছে কর্তৃকারক।

২। কর্মকারক: কর্তা যাকে অবলম্বন করে কার্য সম্পাদন করে সেটাই কর্ম বা কর্মকারক।


যেমন:-

* আমি ভাত খাই।

* হাবিব সোহলকে মেরেছে।


এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে ‘ কি’ বা ‘কাকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া সেটিই কর্ম বা কর্মকারক।


* আমি কি খাই?

উত্তর হচ্ছে-ভাত।

* হাবিব কাকে মেরেছে?

উত্তর হচ্ছে-সোহেলকে।

তাহলে এখানে ভাত আর সোহেল হচ্ছে কর্ম কারক।

৩। করণ কারক: ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র বা উপকরণ বুঝায়।


যেমন:-

* নীরা কলম দিয়ে লেখে।

* সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয়।


এখানে মনে রাখার উপায় হচ্ছে ‘ কীসের দ্বারা’ বা ‘কী উপায়ে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায় সেটিই করণ কারক।


* নীরা কীসের দ্বারা লেখে?

উত্তর হচ্ছে-কলম ।

* কী উপায়ে বা কোন উপায়ে কীর্তিমান হওয়া যায়?

উত্তর হচ্ছে-সাধনায়।

তাহলে এখানে কলম ও সাধনায় হচ্ছে করণ কারক।

৪। সম্প্রদান কারক: স্বত্ব ত্যাগ করে দান বা অর্চনা বুঝালে সম্প্রদান কারক হয়। স্বত্ব ত্যাগ না করলে কর্মকারক।


যেমন:-

* ভিক্ষারীকে ভিক্ষা দাও।

* গুরুজনে কর নতি।


মনে রাখার উপায় হচ্ছে- কর্মকারকের মত কাকে দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়। তবে এখানে স্বত্ব থাকবেনা।

যেমন:-

* মানুষ ভিক্ষারীকে দান করে কোন স্বত্ব ছাড়াই যাকে

বলে নি:শর্ত ভাবে।

* আবার গুরুজনকে মানুষ সম্মান করে কোন স্বার্থ ছাড়াই।

৫। অপাদান কারক: হতে, থেকে বুঝালে অপাদান কারক হবে।


যেমন:-

* গাছ থেকে পাতা পড়ে।

* পাপে বিরত হও।


চেনার উপায়ঃ-

* কোথা থেকে পাতা পড়ে?

উত্তর হচ্ছে- গাছ ।

* কি হতে বিরত হও?

উত্তর হচ্ছে – পাপ ।

৬। অধিকরণ কারক: ক্রিয়ার সম্পাদনের সময় বা

স্থানকে অধিকরণ কারক বলে।


যেমন:-

* আমরা রোজ স্কুলে যাই।

* প্রভাতে সূর্য ওঠে।


মনে রাখার উপায় হচ্ছে-

কোথায় এবং কখন দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়।


* আমরা রোজ কোথায় যাই?

উত্তর হচ্ছে-স্কুলে। আর স্কুল একটি স্থান।

* কখন সূর্য ওঠে?

উত্তর হচ্ছে-প্রভাতে। আর প্রভাত একটি কাল বা সময়।

.

.

****************** বিভক্তি ******************

.

#বিভক্তি মনে রাখার উপায়ঃ-

.

বাংলায় বিভক্তি সাত প্রকার।

★প্রথমা বিভক্তি: অ এবং ০ ।

★দ্বিতীয়া বিভক্তি: কে এবং রে ।

★তৃতীয়া বিভক্তি: দ্বারা, দিয়া এবং কর্তৃক ।

★চতুথী বিভক্তি: দ্বিতীয়া বিভক্তির মত তবে নিমিত্ত বা জন্য বুঝাবে।

★পঞ্চমী বিভক্তি: হতে, থেকে এবং চেয়ে ।

★ষষ্ঠী বিভক্তি: র এবং এর ।

★সপ্তমী বিভক্তি: এ, য়, তে থাকে।